skip to main
|
skip to sidebar
Bhaskar Ghose's Blogs
Thursday, March 24, 2016
My memoirs - Passed Madhyamik
১৯৭৭ সাল। এক পরিবর্তনের বছর। সে বছর আমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষা। আমরা ছিলাম মাধ্যমিকের সেকেন্ড ব্যাচ। আগে মাধ্যমিক বলে কিছু ছিল না। ইলেভেনে হায়ার সেকেন্ডারী পরীক্ষা হত। ৫-ই এপ্রিল শুরু হলো আমার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। পড়তাম শ্যামবাজার এ ভি স্কুলে। হেডমাস্টার ছিলেন এক্স মিলিটারি চন্ডিবাবু। সিট্ পড়ল বিটি রোড গভর্নমেন্ট স্পন্সরড হাই স্কুলে, বিটি রোডের ধারেই। পরীক্ষা দিতে দিতে জানলা দিয়ে বিটি রোডের অলস দুপুরের ট্রাফিক চোখে পড়ত। তখন দুবেলা দুটি পেপার পরীক্ষা হত। প্রথম পরীক্ষার দিন ব
াড়ি থেকে বাগবাজার বাটা পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে বাস ধরে বাবার সঙ্গে সেন্টারে পৌঁছলাম।যথারীতি প্রথম দিন, প্রথম অর্ধে বাংলা ফার্স্ট পেপার পরীক্ষা ছিল। প্রথম যে কোশ্চেনের উত্তর লিখেছিলাম সেটি হল - মধ্যাহ্নে কবিতাটির সারাংশ লেখ। প্রায় আধ ঘন্টা নার্ভাসনেসের জন্য হাত কেঁপেছিল। দুটি পরীক্ষার মাঝখানে এক ঘন্টা বিরতিতে ওখানেই বাবার এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে টিফিন খেয়ে নিতাম। আমাদের ভাইভা পরীক্ষাও সেন্টারেই হয়েছিল, নিজের স্কুলে নয়। বাংলা ভাইভাতে কবিতা আবৃত্তি করতে বললে 'আজি এ প্রভাতে রবির কর' কবিতাটি বলেছিলাম।তখনকার রেওয়াজ অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হবার পর শ্যামবাজারে একটি টাইপ স্কুলে টাইপ শিখেছিলাম। ৪০ পর্যন্ত স্পিড উঠেছিল। সাইকেলের মত টাইপ একবার শিখলে কেউ ভোলে না। তাই আজও ভুলিনি। এছাড়া আমার নেশা ছিল গল্পের বই পড়া।তখন চুটিয়ে গল্পের বই পড়ে নিয়েছি।দেখতে দেখতে পরীক্ষার পর মাসতিনেক কেটে গেল। একদিন শুনলাম মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে। ছুটতে ছুটতে গেলাম শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়। কিছু লোক গেজেট বলে একটি পাতলা বই হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে। তাদের চারিপাশে গাদা লোক ভিড় করে রেজাল্ট দেখছে। ফার্স্ট ডিভিশন হলে সম্ভবত ১ টাকা, ফেল করলে ১০ পয়সা রেট ছিল। দুরুদুরু বক্ষে আমার রোল নম্বরটি দিলাম। ক্যাল-নর্থ-কিছু একটা। দেখলাম ফার্স্ট ডিভিশন। কনফার্ম করতে আরো দু-এক জায়গায় ভেরিফাই করালাম। তারপর ছুটতে ছুটতে শ্যামবাজার থেকে বাড়ি এসে মাকে আনন্দ সংবাদটি জানালাম। ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করব এটা আমার ধারণার অতীত ছিল, কারণ তখন খুব কমই ফার্স্ট ডিভিশন হত। এরকমও মনে হল, যে গেজেটে হয়ত ভুল আছে, মার্কশিট হাতে পেলে সঠিক নম্বর জানা যাবে। আমার জীবনের এই দিনটি ছিল শ্রেষ্ঠ দিন। পরে মাধ্যমিকের রেজাল্টের ভিত্তিতে ন্যাশনাল স্কলারশিপ পেয়েছিলাম। বাবার মাইনে ৫০০ টাকার বেশি ছিল বলে ন্যাশনাল স্কলারশিপ মান্থলি পাইনি, তার বদলে ন্যাশনাল প্রাইজ ১০০ টাকা ও মেরিট সার্টিফিকেট পেয়েছিলাম। সেই ১০০ টাকার চেক জমা দেবার জন্য বাগবাজার স্ট্রিটে ইউনিয়ন ব্যাংকে একটা একাউন্টও খুলতে হয়েছিল। কিন্তু ওই যেদিন গেজেট দেখে মাধ্যমিকের রেজাল্ট জেনে ছুটতে ছুটতে বাড়ি এলাম, সেদিনটা আজ ৫৩ বছর পেরিয়ে এসেও আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ আনন্দের দিন হিসেবে রয়ে গেছে।
No comments:
Post a Comment
Newer Post
Older Post
Home
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Followers
Blog Archive
▼
2016
(7)
▼
March
(7)
My memoirs - death of Indira Gandhi
My memoirs - HIDCO
My memoirs - Entry in J.U.
Doljatra & Bhang (Siddhi)
My memoirs - Passed Higher Secondary
My memoirs - Passed Madhyamik
My memoirs - Sessional preparation
About Me
Bhaskar Ghosh
View my complete profile
No comments:
Post a Comment