তখন যাদবপুরে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। সেশনাল জমা দিতে হবে। আমরা যাদবপুরের ছেলেরা বি ই কলেজের মত রেসিডেন্সিয়াল হোস্টেল ফেসিলিটি, লাইট ট্রেস ইত্যাদি করার সুযোগ পাইনি। অরুনাশীষ, গাঙ্গুলি, দাম, ইত্যাদি আমরা কজন ঠিক করলাম দেবনারায়ন ওরফে জেঠুর বাড়িতে সারারাত সেশনাল বানিয়ে পরের দিন জমা দেব। জেঠু যেহেতু একেবারে গোলা মাল, ওর মেটেরিয়ালসগুলো অন্য কেউ বানিয়ে দেবে, এরকম একটা ভাবনাও ওর ছিল। কলেজ ছুটির পর ট্রেন ধরে ব্যারাকপুরে জেঠুর বাড়ি পৌঁছলাম। সেখানে খুবই আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল। সন্ধ্যেবেলা পৌঁঁছে আমরা চলে গেলাম জয়ন্তী হলে সিনেমা দেখতে। সিনেমার নাম কাতিলো কা কাতিল। ব্ল্যাকে টিকিট কাটা হল। নাইট শো। চারিপাশে যারা বসে আছে তাদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে বর্ণ ক্রিমিনাল। অরুনাশীষ বলল এদের নাকি গ্রেডিং আছে। মার্ডারে দশ, রেপে পাঁচ। মোটামুটি ৪৫ নম্বর না পেলে দলে চান্স পাবে না। রিসেন্টলি এটা ৯৫ হয়েছে বলে শোনা যায়। সিনেমায় একটা করে গান হচ্ছে আর আমাদের চারপাশের ক্রিমিনালরা নাচছে আর টাকা ছুঁড়ছে। হলের লোকেরা টাকা কুড়চ্ছে এবং একই গান বার বার হচ্ছে। সিনেমা শেষ করে জেঠুর বাড়ি ফিরলাম। জেঠুর বাবা মা খুব যত্ন করে ডিনার খাওয়ালেন। তারপর শুরু হল আমাদের সেশনালের কাজ। ফিউনিকুলার পলিগন থেকে ফোর্স বার করে মেম্বার ডিজাইন। সবাই যে কাজ করছে তা নয়। দাম যেমন জেঠুর বাবার নাক ডাকার কার্ভ আঁকছিল। সারা রাত জাগা। পরের দিন কলেজে পৌঁছে সেশনাল জমা দিলাম। জেঠুর বাড়ির ওই রাত্তিরের কথা এখনো মনে আছে। ৩৪ বছর আগেকার কথা। জানিনা আর কারো মনে আছে কিনা। কবে মরে যাই, তাই লিখে রাখলাম।
Thursday, March 24, 2016
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment